ইরানে মার্কিন যুদ্ধবিমান অনুসন্ধানে পাঠানো হেলিকপ্টারেও হামলার দাবি
ইরানে নিখোঁজ মার্কিন যুদ্ধবিমানের খোঁজে পাঠানো একটি হেলিকপ্টারে হামলার দাবি করেছে ইরানের রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত গণমাধ্যম। তবে দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া আসেনি।
ইরানে ভূপাতিত মার্কিন যুদ্ধবিমান ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্র-সম্পৃক্ত গণমাধ্যম দাবি করেছে, নিখোঁজ বিধ্বস্ত মার্কিন জেটের খোঁজে পাঠানো একটি মার্কিন হেলিকপ্টারেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে এ দাবি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা Mehr News Agency জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া মার্কিন হেলিকপ্টারটি একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন দাবি করে, দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়েছে এবং অন্তত একজন ক্রু সদস্য প্যারাশুটের মাধ্যমে বের হয়ে যান।
এই ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন শুরু করে। একটি ইসরায়েলি সামরিক সূত্র জানায়, এ অভিযানে ইসরায়েলও সহায়তা করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি পার্বত্য এলাকায় মার্কিন ড্রোন, বিমান ও হেলিকপ্টার টহল দিচ্ছে—যেখানে জেটটি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
যদি ঘটনাটি নিশ্চিত হয়, তাহলে চলমান সংঘাতের মধ্যে এটিই হবে ইরানের ভেতরে মার্কিন কোনো যুদ্ধবিমান হারানোর প্রথম ঘটনা। তবে জেটটি শত্রুপক্ষের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে, নাকি প্রযুক্তিগত ত্রুটিতে বিধ্বস্ত হয়েছে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি Karoline Leavitt জানিয়েছেন, পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট Donald Trump-কে অবহিত করা হয়েছে, তবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। পাশাপাশি Pentagon এবং US Central Command এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
ইরানি রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ বার্তা প্রচার করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্ভাব্য “শত্রু পাইলট” শনাক্ত করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের আহ্বান জানানো হয় এবং পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। এমনকি কিছু অনির্ধারিত ফুটেজের ভিত্তিতে সন্দেহভাজন মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর আহ্বান জানানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে কুয়েতের একটি ডেসালিনেশন প্ল্যান্ট ও জ্বালানি স্থাপনায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব ও বাহরাইনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছে এবং ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোঁড়া হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া এই সংঘাত এখন পঞ্চম সপ্তাহে প্রবেশ করেছে। এতে একাধিক দেশে হতাহত বেড়েছে এবং বৈশ্বিক উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে Strait of Hormuz ঘিরে, যেখানে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র: Mehr News Agency, Al Jazeera.