2026-04-04 / 17:51 +06 / Bangladesh 62F
The Daily Dhaka News

সমগ্রভিত্তিক প্রতিবেদন, দ্রুততার জন্য সমন্বিতভাবে উপস্থাপিত।

সাধারণ

গৌরীপুরে রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে কলতাপাড়া-চুড়ালী দক্ষিণপাড়া সড়ক সংস্কারে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে এলাকাবাসী মানববন্ধন করেছে। স্থানীয়দের দাবি, বরাদ্দ থাকলেও দৃশ্যমান কাজ হয়নি এবং অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি জানানো হয়।

প্রকাশিত 2026-04-03 22:27 +06 | bd24live

গৌরীপুরে রাস্তা সংস্কারে অনিয়মের অভিযোগে মানববন্ধন

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার কলতাপাড়া-চুড়ালী দক্ষিণপাড়া রাস্তা সংস্কার কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। শুক্রবার দুপুরে কলতাপাড়া গৌরীপুর রাস্তা থেকে চুড়ালী দক্ষিণপাড়া পাক পাঞ্জাতন মসজিদ পর্যন্ত এলাকায় এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যানার হাতে অংশ নিয়ে তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচির আওতায় উল্লিখিত রাস্তাটি সংস্কারের জন্য ৪ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কে কোনো টেকসই বা দৃশ্যমান কাজ না করেই বরাদ্দের বড় একটি অংশ আত্মসাৎ করা হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা এই অনিয়মের জন্য হাফেজ মো. আজিজুল হক, কমল কুমার রায়, রুহুল আমীন মন্ডল এবং সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সরলা আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দা খুদেজা খাতুন বলেন, "রাস্তার জন্য বরাদ্দ এলেও সংশ্লিষ্টরা কাজ না করে টাকাগুলো পকেটে ভরেছেন। আমরা এর বিচার চাই।" পাক পাঞ্জাতন মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিব উল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে এই সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছি। সরকারের বরাদ্দ এলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তা আত্মসাৎ করা হয়েছে। সংস্কারের নামে যা হয়েছে তা কেবল লোক দেখানো।"

এ বিষয়ে প্রকল্প সভাপতি ও ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য সরলা আক্তার বলেন, "প্রকল্প সভাপতি ও কাজটি আমার নামে বরাদ্দ হলেও তা বাস্তবায়ন করেছেন আজিজুল হক। আমি চাই কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন হোক।" রুহুল আমীন মন্ডল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "এই কাজের সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। প্রতিহিংসাবশত আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হচ্ছে।" এ বিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করে হাফেজ মো. আজিজুল হক বলেন, "আমি কোনো কমিটির সদস্য বা মেম্বার-চেয়ারম্যান নই। আমার বিরুদ্ধে কেন মানববন্ধন হবে? যারা মানববন্ধন করছে তারা না বুঝেই করছে।" ৮ নং ডৌহাখলা ইউনিয়নের প্রশাসক কমল কুমার রায় এর বক্তব্য নিতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমীন পাপ্পা সাংবাদিকদের জানান, "এখনো কাজের বিল প্রদান করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছে। যথাযথভাবে কাজ সম্পন্ন না করা পর্যন্ত কোনো বিল উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।" এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দ্রুত মানসম্মতভাবে সড়কটি সংস্কার করা হোক।